বাজারে কৃত্রিম সংকটের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা জেলা প্রশাসেনর
- ডেস্ক রিপোর্ট:
- 19 Feb, 2026
রমজানে বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এবার কঠোর বার্তা দিল চট্টগ্রামের প্রশাসন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর রমজানের প্রথম দিন চট্টগ্রামের পাইকারী ব্যবসা কেন্দ্র খাতুনগঞ্জে ব্যবসায়ীদের এই বার্তা দেন।
এসময় ব্যবসায়ীদের পণ্যমুল্য যাতে সাধারনের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে সেজন্য সহযোগিতার আহবান জানানো হয়।
নিত্যপণ্যের বাজার সহনশীল রাখতে সকালে জেলা প্রশাসন, সিএমপি পুলিশসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতনের কর্মকর্তারা দেশের অন্যতম পাইকারী ব্যবসা কেন্দ্র খাতুনগঞ্জে অভিযান চালান। অভিযানে পেঁয়াজ, খেজুর, ডাল, চিনি, ছোলাসহ রমজানে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের আড়তে গিয়ে দাম যাচাই করেন।
এসময় তারা আড়দার, দোকানমালিকসহ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন। রমজানে যাতে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে পন্যের বাড়িতিট মূল্য নেয়া না হয় সে জন্য সর্তক করেন।
বাজারের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেন সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো: হুমায়ুন কবির। তিনি পন্য মুজুদ করা হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ব্যবসায়ীদের।
এদিকে আড়তদাররা জানিয়েছেন, এবারের রমজানে নিত্য পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক অসন্তোষসহ নির্বাচনী ঝামেলায় দাম কিছুটা বাড়লেও এখন নিম্মমুখী। কয়েকদিনের মধ্যে ছোলাসহ অনান্য পণ্যের দাম আরো কমবে বলে জানান তারা।
ব্যবসায়ী এবং আড়দারা জানান, চিনি, তেলসহ অনান্য ভোগ্য পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ আছে। দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা নাই, তবে খুচরা বাজারে নজরদারি বড়ানোর কথা বলেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ী নেতারা জানান, মিল মালিকদের যোগসাজসে যথাসময়ে ডিও ছাড় না করা এবং বাজার ব্যবস্থায় তদারকি না থাকায় নিত্য পন্যেও বাজার অস্থির হয়ে উঠে। এরফলে বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজির সুযোগ তৈরি হয়। এজন্য অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহৃত করে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বলেন তারা।
এদিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকসহ প্রশানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খাতুনগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাথে বৈঠক করে বাজার কারসাজি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার বার্তা দেন।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা উৎসব পার্বনে পন্যের দাম কম রাখার সংস্কৃতি তৈরীতে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, কেউ কারসাজি করে পণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যবসীয়রা জানান, দেশে ছােলার চাহিদা প্রায় আড়াই লাখ মে.টন। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাড়ে ৭ মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৯৮ টন ছোলা আমদানী হয়েছে। আমদানিকারকরা পাইকারদের কাছে প্রতিমণ ছোলা ২ হাজার ৬০০ টাকা বিক্রি করছেন। এছাড়া তেল,চিনিসহ অনান্য ভোগ্য পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় দাম বাড়ার কোন সম্ভাবনা নাই বলে জানান ব্যবাসয়ীরা।
Leave a Reply
Your email address will not be published. Required fields are marked *

